বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১২ অক্টোবর ২০২১

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ : আইয়ুব বাচ্চুর গানের ডিজটাল আরকাইভিং ও 05 (পাঁচ) হাজার ডলার র‌য়্যালিটি উপার্জন।


প্রকাশন তারিখ : 2021-10-12

প্রেস রিলিজ

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ : আইয়ুব বাচ্চুর গানের ডিজটাল আরকাইভিং ও 05 (পাঁচ) হাজার ডলার র‌য়্যালিটি উপার্জন।

সংগীত শিল্পীর সৃষ্টি কর্মকে সংরক্ষণ ও স্বত্ত্ব সুরক্ষায় বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী মরহুম আইয়ুব বাচ্চুর সংগীত জীবনের মেধাস্বত্ত্ব সংরক্ষণ ও ডিজিটাল আরকাইভিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। গত 18 অক্টোবর 2020 তারিখে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী জনাব কে. এম. খালেদ এম.পি।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস মূলত দুটি উদ্দেশ্যে উক্ত পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় :

প্রথমত, একজন সৃজনশীল কিংবদন্তী শিল্পীর সারা জীবনের গল্প ও সৃষ্টিকে একটি ফ্রেমে এনে সুরক্ষিত করা এবং এর মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের পক্ষ থেকে একজন অকাল প্রয়াত খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় সংগীত শিল্পীর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।

দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন মাধ্যম বিশেষভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে সংগীতের কপিরাইট লংঘনের বিষয়ে সর্বস্তরে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সংগীত সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ কর্ম সুরক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা।

উক্ত কর্মসূচির বাস্তবায়নের পর স্থানীয় একটি পেশাদার এমসিএন কোম্পানী জেড. এম. স্টুডিও’র সহযোগিতায় আইয়ুব বাচ্চুর কপিরাইট নিবন্ধিত 272 গানের বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া যেমন-ইউটিউব, আই-টিউন, ফেসবুক, এ্যামাজন ইত্যাদি ডিজিটাল মাধ্যমে চ্যানেল ওপেন করে মনিটাইজিং ও Digital Sinking এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গত এক বছরে উক্ত সোস্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আইয়ুব বাচ্চুর রেজিস্ট্রার্ড এ্যাকাউন্ট ‘এবি কিচেন’-এ রয়্যালিটি হিসেবে 5014.08 মার্কিন ডলার জমা হয়েছে। এছাড়া আইয়ুব বাচচুর গানসমূহকে দুটি মোবাইল কোম্পানী ও একটি স্থানীয় ওটিটি প্ল্যটিফর্মে ব্যবহারের জন্য ‘গ্যাক মিডিয়া’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সংগে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তি অনুসারে গ্যাক মিডিয়া এককালিন 05 (পাঁচ) লক্ষ্য টাকার অগ্রিম চেক আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারকে হস্তান্তর করে। উল্লেখ্য, এই টাকা উক্ত দুটো মোবাইল কোম্পানী ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হতে অর্জিত র‌য়্যালিটি থেকে সমন্বয় করা হবে। উক্ত কোম্পানী এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত রয়্যালিটির মাসিক প্রতিবেদন আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারকে নিয়মিতভাবে দেয়া হবে, যা বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস থেকে মনিটরিং করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কে. এম. খালেদ এম.পি জানান যে, গান আপলোড করে ডিজিটাল মিডিয়ার দ্বারা যে অর্থ উপার্জিত হতে পারে, এটি আমাদের দেশে একটি নতুন ধারনা। এখনও এ দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে তা অবিশ্বাস্যও বটে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্দ্যোগের মাধ্যমে একজন সংগীতজ্ঞকে সম্মান জানানো, তার সৃষ্টিকে সংরক্ষণের পাশা পাশি আর্থিক উপার্জনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসকে সাধুবাদ জানান। দেশের আরও জনপ্রিয় সংগীত ব্যক্তিত্ব যদি তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সহায়তা চান, তবে অনুরূপভাবে তাদেরকেও সহায়তার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি কপিরাইট অফিসকে অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি কপিরাইট লংঘনের বিষয়ে যে কোন অভিযোগ করা হলে, কপিরাইট টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটস জনাব জাফর রাজা চৌধুরী বলেন যে, বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিকের অন্যতম জন নন্দিত শিল্পী রক আইকন আইয়ুব বাচ্চু। তিনিই ছিলেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের প্রথম আবেদনকারী। তার কালজয়ী সৃষ্টিশীল কর্মকে সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই মহতী উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে অনুপ্রানিত হয়ে মেধাসম্পদ বিশেষত: সংগীতের ক্ষেত্রে দেশের সংগীত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ স্ব স্ব স্বার্থ সুরক্ষায় সচেষ্ট হবেন মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে দেশের সংগীতের জগতে কিংবদন্তী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বগণের সৃজনশীল কর্মের স্বার্থ সুরক্ষায় অনুরূপভাবে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সহায়তা কামনা করেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কপিরাইট বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব সাবিহা পারভীন। সভায় আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের পক্ষ থেকে চেক গ্রহণ করেন তার স্ত্রী জনাব ফৈরদৌস আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কপিরাইট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জনাব মুহাম্মাদ রায়হানুল হারুন।   


Share with :

Facebook Facebook